০২৬-এর অসম বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ময়দানে নেমে পড়ল শাসকদল বিজেপি। মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উপস্থিতিতে প্রকাশিত হল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সংকল্প পত্র’। এই ইস্তাহারে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ (UCC) প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি। বিজেপি সাফ জানিয়েছে, পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের ধাঁচেই অসমেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হবে। তবে জনজাতীয় এলাকা এবং ষষ্ঠ তফশিলভুক্ত অঞ্চলগুলিকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
ইস্তাহারে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির সুর আরও চড়িয়ে ‘লাভ জিহাদ’ (Love Jihad) বন্ধে কড়া আইনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, হিন্দু মেয়েদের রক্ষা করতে এবং ‘ল্যান্ড জিহাদ’ বা ভূমি জবরদখল রুখতে তাঁদের সরকার আপসহীন। এছাড়াও ১৯৫০ সালের ইমিগ্র্যান্টস অ্যাক্ট প্রয়োগ করে অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও বিতাড়ন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার কথা বলা হয়েছে। বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অসমের এক ইঞ্চি জমিও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দখলে থাকতে দেওয়া হবে না।
উন্নয়নের খতিয়ানেও একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গেরুয়া শিবির। আগামী ৫ বছরে ২ লক্ষ সরকারি চাকরি, মহিলাদের জন্য ‘অরুণোদয়’ প্রকল্পের মাসিক ভাতা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করা এবং ১৫ লক্ষ নতুন আবাসন তৈরির কথা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে অসমকে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে দল। পর্যটন ও কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিয়ে অসমকে দেশের ‘ইস্টার্ন গেটওয়ে’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়েছে বিজেপি। বিরোধীরা এই ইস্তাহারকে ‘বিভাজনের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করলেও, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার আত্মবিশ্বাস, এই উন্নয়নের রূপরেখাই তাঁদের টানা তৃতীয়বার মসনদে বসাবে।