২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক মহাবিস্ফোরণ। সারদা-নারদ বা নিয়োগ দুর্নীতি নয়, এবার সরাসরি বিরোধী দলনেতার ব্যক্তিগত সম্পত্তির উৎস নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এক নির্বাচনী জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধী দলনেতার শুধুমাত্র এ রাজ্যে বা দেশে নয়, সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানেও বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে আক্ষরিক অর্থেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সুর চড়িয়ে বলেন, “সবাইকে চোর বলা আর ইডি-সিবিআই দিয়ে ভয় দেখানোই এদের কাজ। অথচ নিজেরা কী করে বেড়াচ্ছেন? আমার কাছে খবর আছে, বিরোধী দলনেতার বেনামি সম্পত্তি পাকিস্তানেও রয়েছে। কোথা থেকে এল এই টাকা? কার মাধ্যমে বিনিয়োগ হয়েছে?” মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো কেন বিরোধী নেতার এই বিদেশের সম্পত্তির হদিশ নিচ্ছে না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তিনি সাফ জানান, তৃণমূলের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে এবং সময়মতো তা জনসমক্ষে আনা হবে।
স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘ভোটের গিমিক’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলনেতার পাল্টা দাবি, হার নিশ্চিত জেনে মুখ্যমন্ত্রী এখন অবাস্তব গল্প ফাঁদছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের মুখে ‘পাকিস্তান’ এবং ‘সম্পত্তি’—এই দুটি স্পর্শকাতর বিষয়কে সামনে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন। এখন দেখার, এই ‘পাকিস্তানি সম্পত্তি’র অভিযোগ আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায় পৌঁছায় কি না।