মেঘালয়ের পাহাড়ে মধুচন্দ্রিমার আনন্দ যে এমন এক হাড়হিম করা অপরাধের গল্পে পরিণত হবে, তা কেউ ভাবেনি। বারাণসীর বাসিন্দা রাজা তার স্ত্রীকে নিয়ে মেঘালয় ভ্রমণে গিয়েছিলেন। কয়েকদিন পর স্ত্রী ফিরে এসে দাবি করেন, রাজা নিখোঁজ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকের ষড়যন্ত্রে রাজাকে পাহাড় থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ একটি বিকৃত দেহ উদ্ধার করে রাজার পরিবারকে শনাক্ত করতে বলে এবং সেই দেহ সৎকারও করা হয়। কিন্তু গল্পের আসল টুইস্ট এল গত রাতে!
শোকের ঘরে উৎসবের রোশনাই রাজার পরিবার যখন তাঁর শ্রাদ্ধশান্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই বারাণসীর বাড়িতে সশরীরে হাজির হন ‘মৃত’ রাজা! তাঁকে দেখে প্রথমে ভূত ভেবে চমকে উঠলেও পরে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনরা। জানা গিয়েছে, পাহাড় থেকে পড়ে গেলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। এক মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। শোকের বাড়ি মুহূর্তেই খুশির ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে সেই ঘর, যা কয়েক ঘণ্টা আগেও কান্নায় ভেঙে পড়েছিল।
আইন ও ষড়যন্ত্রের প্যাঁচ রাজার প্রত্যাবর্তনের পর এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে মেঘালয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। তবে পুলিশ যে দেহটি উদ্ধার করেছিল সেটি কার? উত্তরপ্রদেশ এবং মেঘালয় পুলিশ যৌথভাবে এখন এই রহস্যের জট ছাড়াতে মরিয়া। এদিকে, স্বামীকে খুনের ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত স্ত্রীকে ইতিপূর্বেই গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজার এই ‘ফিরে আসা’ এখন গোটা দেশে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।