রাহুলের শেষকৃত্যে শ্মশানে রণক্ষেত্র! প্রিয় অভিনেতাকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে এ কী হলো কেওড়াতলায়?

প্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে শুধু টলিউড নয়, গোটা বাংলা আজ শোকস্তব্ধ। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় কেওড়াতলা মহাশ্মশানে রাহুলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার আগে যে পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। শোকাতুর ভক্তদের ভিড় এবং শ্মশানের প্রশাসনিক কড়াকড়িকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল শ্মশান চত্বর।

বিৃঙ্খলার সূত্রপাত: বিকেল থেকেই কেওড়াতলা মহাশ্মশানের বাইরে ভিড় করতে শুরু করেছিলেন হাজার হাজার অনুরাগী। টলিপাড়ার অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু রাহুলের মরদেহবাহী গাড়ি যখন শ্মশানে পৌঁছায়, তখন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ভক্তরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হালকা লাঠিচার্জও করতে হয়েছে বলে অভিযোগ।

কেন এই সংঘাত? প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শ্মশানের ভেতরে ঢোকা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে অভিনেতা এবং সাধারণ মানুষের বচসা শুরু হয়। ভিড় সামলাতে শ্মশানের মূল গেট বন্ধ করে দেওয়া হলে উত্তেজনার পারদ চড়ে। অনেক অনুরাগীই দাবি করেন, তাঁরা দূর-দূরান্ত থেকে বাবিনকে (রাহুলের ডাকনাম) শেষ দেখা দেখতে এসেছেন, কিন্তু পুলিশ তাঁদের বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি ছিল, শ্মশানের ভেতরে শৃঙ্খলার স্বার্থেই অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

অশ্রুভেজা বিদায়: শেষমেশ তারকা ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাহুলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সোহিনী সরকার, রাজ চক্রবর্তীর মতো ব্যক্তিত্বরা। স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং পুত্র সহজের কান্নায় উপস্থিত সকলের চোখে জল আসে। তবে শেষ যাত্রার এই বিশৃঙ্খলা নিয়ে ইতিমধ্যেই টলিপাড়ার অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, গতকাল তালসারিতে শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় ৪৩ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান অভিনেতার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy