টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন জগত। ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। কিন্তু এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রত্যক্ষদর্শী এবং সহ-অভিনেতা দিগন্ত বাগচীর দাবি অনুযায়ী, রাহুলকে যখন জল থেকে উদ্ধার করা হয়, তখন তাঁর শরীরে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত বিকেলে? ‘ভোলেনাথ পার করবে’ ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল তালসারিতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুটিং শেষ হওয়ার পর রাহুল একাই সমুদ্রের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। হঠাৎই একটি বড় ঢেউ আসে এবং তিনি জলের তলায় তলিয়ে যান। সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র পাড়েই দাঁড়িয়ে ছিলেন। রাহুলকে তলিয়ে যেতে দেখে তিনিই চিৎকার করে সকলকে জড়ো করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান: অভিনেতা দিগন্ত বাগচী বলেন, “আমরা হঠাৎ শুনি টেকনিশিয়ানরা চিৎকার করছেন, ‘রাহুলদা ডুবে যাচ্ছে’। আমরা ছুটে গিয়ে দেখি ও জলের তলায় আটকে পড়েছে। সম্ভবত ওর পা বালিতে বসে গিয়েছিল। যখন ওকে জল থেকে টেনে তোলা হলো, তখন ও শ্বাস নিচ্ছিল। আমরা দ্রুত ওকে গাড়িতে তুলে দিঘার হাসপাতালের দিকে রওনা দিই। গাড়িতে যাওয়ার সময়ও ওর শরীরে স্পন্দন ছিল। টেকনিশিয়ানরা ওর বুকে মালিশ করতে থাকেন যাতে শ্বাস সচল থাকে।”
হাসপাতালের পথে সেই লড়াই: রাহুলকে যখন দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন চিকিৎসকরা তাঁকে ‘ব্রট ডেড’ বা মৃত বলে ঘোষণা করেন। অর্থাৎ, হাসপাতাল পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, যদি আরও দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া যেত, তবে হয়তো ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। ওড়িশা পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।