২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের স্নায়ুর লড়াই এবার পৌঁছে গেল নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হল ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপির দাবি, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন এবং প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছেন, যা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়।
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূল নেত্রী তাঁর জনসংযোগ কর্মসূচির আড়ালে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি তোয়াক্কা না করেই মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করছেন। বিজেপির প্রতিনিধি দল এদিন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করে একটি বিশদ স্মারকলিপি জমা দেয়। তাদের অভিযোগ, “একজন সাংবিধানিক পদে আসীন হয়ে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন, তা নজিরবিহীন। এর ফলে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে আতঙ্কিত বোধ করবেন।”
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে চাপানউতোর চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন যে, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি মিলে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিচ্ছে। পাল্টা বিজেপি এদিন অভিযোগ করল যে, মুখ্যমন্ত্রী হার নিশ্চিত জেনেই এখন ভোটারদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছেন। বিজেপির প্রতিনিধিরা কিছু অডিও-ভিডিও ক্লিপ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানও কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছে বলে খবর।
নির্বাচন কমিশন বিজেপির এই নালিশ গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট ঘোষণার আগে থেকেই যেভাবে দুই প্রধান প্রতিপক্ষ কমিশনের দরজায় কড়া নাড়ছে, তাতে আগামী কয়েক মাস বাংলার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েও পর কোনো বিধিনিষেধ আসে কি না, সেটাই এখন দেখার।