লোকসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাগযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্যের অভিযোগ তুলে ভারতের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপির দাবি, তৃণমূল নেত্রী তাঁর সাম্প্রতিক জনসভাগুলোতে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা রাজ্যে অশান্তি ছড়াতে পারে এবং যা সরাসরি আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) লঙ্ঘনের শামিল।
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে প্ররোচনামূলক শব্দ ব্যবহার করছেন। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে অর্জুন সিং, শিশির বাজোরিয়া এবং দলের আইন সেলের প্রতিনিধিরা কমিশনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভায় দাঁড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য এমন বয়ান দিচ্ছেন যা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিপন্থী।
বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব ছিল শান্তি বজায় রাখা, কিন্তু তিনি উল্টো উস্কানি দিচ্ছেন। আমরা কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছি যাতে অবিলম্বে তাঁর প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।” বিজেপির প্রতিনিধি দল নির্দিষ্ট কিছু সভার ভিডিও ফুটেজ ও সংবাদপত্রের কাটিং কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছে প্রমাণ হিসেবে। তাঁদের দাবি, এই ধরণের উস্কানি বন্ধ না হলে স্পর্শকাতর বুথগুলিতে হিংসার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজেপি হার নিশ্চিত জেনেই হারের অজুহাত খুঁজছে। তৃণমূলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন তা বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন এবং মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই। তবে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। এখন দেখার, মমতার প্রচারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ হয় কি না, নাকি বিজেপিকে ফের আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটতে হয়।