লাল-গেরুয়া-সবুজ মিলেমিশে একাকার রাহুলের শেষযাত্রায়, কান্নায় ভেঙে পড়ল গোটা টলিপাড়া

মৃত্যু সব দূরত্ব মুছে দেয়, সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষযাত্রায় ঠিক সেই দৃশ্যেরই সাক্ষী থাকল কলকাতা। ওড়িশার তালসারি সৈকতে শ্যুটিং চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এই জনপ্রিয় অভিনেতাকে শেষ বিদায় জানাতে এদিন ভিড় উপচে পড়েছিল। আর সেই ভিড়ে মিশে গেল রাজনীতির সমস্ত রং। প্রিয় মানুষকে শেষ দেখা দেখতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে দলীয় পরিচয় ভুলে পাশাপাশি দাঁড়ালেন বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের নেতা-নেত্রীরা।

রাহুল নিজে বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, এ কথা কারও অজানা নয়। বহুবার তাঁকে প্রকাশ্য মঞ্চে নিজের মতাদর্শ নিয়ে সরব হতে দেখা গেছে। কিন্তু তাঁর শেষ যাত্রায় দেখা গেল এক অনন্য রাজনৈতিক সৌজন্য। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিজেপি এবং বামফ্রন্টের শীর্ষ সারির নেতারা একে একে এসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাহুলের নিথর দেহে। সেখানে লাল পতাকার কর্মীরা যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন ঘাসফুল ও গেরুয়া শিবিরের প্রতিনিধিরা। প্রিয় সহকর্মীর প্রয়াণে কোনো বিভেদ ছিল না, ছিল শুধু স্বজন হারানোর যন্ত্রণা।

কেঁওড়াতলা মহাশ্মশানে যখন রাহুলের নশ্বর দেহ নিয়ে আসা হয়, তখন সেখানে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। টলিপাড়ার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক কর্মীরাও সামিল হন মিছিলে। প্রত্যেকেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন, রাহুল ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনীতিকে কখনও বাধা হতে দেননি। তাঁর স্পষ্টবাদিতা এবং নির্ভীক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই আজ সব দলের মানুষকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলেছে।

রাহুলের অকাল প্রয়াণ টলিউডের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি তাঁর নতুন প্রজেক্টের কাজে তালসারি গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে ফিরলেন নিথর হয়ে। চিরকাল হাসিখুশি এবং প্রতিবাদী এই মানুষটির বিদায়ে গঙ্গার ঘাটে নেমে এসেছিল স্তব্ধতা। রাজনীতির রং মেশা সেই শেষযাত্রা যেন প্রমাণ করে দিল, শিল্পী কোনো গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নন; শিল্পী সবার। চোখের জলে, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে প্রিয় রাহুলকে বিদায় জানাল তিলোত্তমা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy