বাংলার ঘরে ঘরে যাকে ‘চিন্ময়’ বলে চিনত সবাই, সেই রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই। দিঘার মোহনায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর টলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতার নিথর দেহ এখন ফেরার অপেক্ষায়। এই দুঃসংবাদ পাওয়ার পরেই দক্ষিণ কলকাতার পল্লীশ্রী এলাকায় রাহুলের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। যে জুটিকে দেখে একসময় গোটা বাংলা প্রেমে পড়তে শিখেছিল, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর সেই বাস্তব জুটির বিচ্ছেদ হয়ে গেল চিরতরে। প্রিয়াঙ্কা এবং তাঁদের একমাত্র সন্তান সহজকে আগলে রাখার অঙ্গীকার বোধহয় অসম্পূর্ণই থেকে গেল।
বিকেল গড়াতেই দিঘা থেকে দুঃসংবাদ আসে যে, ওল্ড দিঘার মোহনায় তলিয়ে গিয়েছেন রাহুল। এরপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। খবরটি পৌঁছাতেই পল্লীশ্রীর বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। প্রতিবেশী থেকে শুরু করে টলিউড সহকর্মীরা একে একে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। প্রিয়াঙ্কা সরকার বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। গত এক বছর ধরে বিচ্ছেদ ভুলে তাঁরা ফের এক ছাদের তলায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু নিয়তি সব পরিকল্পনা তছনছ করে দিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের পর রাহুলের মরদেহ কলকাতায় নিয়ে আসা হবে। তাঁর বাড়ির সামনে এখন থিকথিকে ভিড়। অনুরাগী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অপেক্ষা করছেন। প্রিয় বন্ধুর মৃত্যু সংবাদে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী ও অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। ‘সহজ কথা’ আর বলা হবে না, কিন্তু রাহুলের সেই প্রাণখোলা হাসি আর অভিনয়ের স্মৃতি পল্লীশ্রীর গলি ছাড়িয়ে বাঙালির হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।