উত্তর ২৪ পরগনার নওদা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হাইভোল্টেজ সভা শুরু হওয়ার আগেই চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভাস্থলে পৌঁছানোর ঠিক আগেই দলীয় প্রার্থী সাহিনা মমতাজ এবং স্থানীয় নেতা সফিউজ্জামান হাবিবের অনুগামীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে একে অপরের দিকে চেয়ার ছোড়া হয় এবং এক তৃণমূল কর্মীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওদাতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। বর্তমান প্রার্থী সাহিনা মমতাজ এবং ব্লক সভাপতি তথা সাংসদ আবু তাহের খানের ভাগ্নে সফিউজ্জামান হাবিবের গোষ্ঠীর মধ্যে আসন বিন্যাস নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত। অভিযোগ, সাহিনার এক সমর্থককে জোর করে চেয়ার থেকে সরিয়ে মারধর করা হয়। এর পরেই মাঠের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়, যা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ সমর্থকরা। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মঞ্চে উঠে এই দৃশ্য দেখে রীতিমতো অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কড়া ভাষায় কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “দলের জার্সি পরে দলের বিরুদ্ধেই খেললে এক মাসের মধ্যে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। যারা বিশৃঙ্খলা করছেন, তারা সারা জীবনের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাবেন।” প্রার্থীর নাম ঘোষণা নিয়ে আগে থেকেই নওদাতে অসন্তোষ ছিল, যা রবিবারের সভায় প্রকাশ্য চলে এল। যদিও সফিউজ্জামান হাবিব পরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং প্রার্থীর পাশেই থাকার বার্তা দেন।