বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহে শিশুদের মধ্যে হামের (Measles) প্রকোপ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা এবং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফের পক্ষ থেকেও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা স্থবিরতা আসায় অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গিয়েছে, যা এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শরীরের লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিস্কে প্রদাহ এমনকি অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হামের ঝুঁকি ও জটিলতা অনেক বেশি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার দেশজুড়ে বিশেষ ‘ক্যাচ-আপ’ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব শিশু নিয়মিত এমআর (Measles-Rubella) টিকা নিতে পারেনি, তাদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়াও আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বাড়তি মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং এবং লিফলেট বিতরণের কাজও চলছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ—শিশুর জ্বর ও গায়ে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন এবং পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত জল পান নিশ্চিত করুন।





