তেলের দামে আগুন! অফিস থেকে রেশন—তীব্র সংকট মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে শুরু ‘ইমার্জেন্সি’ মোড

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীর সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের জোগানে টান পড়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ এখন তাদের পুরনো ‘কোভিড প্লেবুক’ থেকে ধুলো ঝেড়ে বের করছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের দাওয়াই। সাথে যুক্ত হয়েছে কড়া রেশনিং ব্যবস্থা।

ভারত ও এশিয়ার চিত্র: ভারতের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে ইতিমধ্যেই সরকারি অফিসে চার দিনের কর্মদিবস চালু করা হয়েছে এবং ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি জ্বালানি বাঁচাতে দু’সপ্তাহের জন্য স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে ইসলামাবাদ। শ্রীলঙ্কায় ফিরে এসেছে কিউআর কোড ভিত্তিক ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’, যেখানে মোটরসাইকেল বা গাড়ির জন্য সাপ্তাহিক তেলের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে চলছে লোডশেডিং।

পশ্চিমী দেশগুলোর পদক্ষেপ: শুধুমাত্র এশিয়া নয়, ইউরোপের দেশগুলোও অস্থির। জার্মানি পেট্রোল পাম্পগুলোতে দিনে একবারের বেশি দাম বাড়ানো নিষিদ্ধ করেছে। স্পেন এবং পর্তুগাল জ্বালানির ওপর ভ্যাট (VAT) কমিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলোও তাদের পুরনো ‘কার-লেস ডে’ বা গাড়িহীন দিন কাটানোর নীতি ফেরানোর কথা ভাবছে।

কেন এই পরিস্থিতি? আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। সেখানে সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলে পুরো বিশ্বের সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ে। ফলে একদিকে যেমন পরিবহন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এই চরম সংকটকালে জ্বালানি সাশ্রয়ই এখন একমাত্র পথ। সাইকেল চালানো, গণপরিবহন ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ বাতিলের মাধ্যমে দেশগুলো তাদের মজুত রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।