সোমবার থেকেই অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ? ভোটের মুখে সরকারি কর্মীদের জন্য নবান্নর বড় চমক!

রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মেটানো নিয়ে নবান্নর এক চাঞ্চল্যকর নির্দেশিকায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। নবান্ন সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সোমবার (৩০ মার্চ, ২০২৬) থেকেই বকেয়া ডিএ-র টাকা কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ঢোকা শুরু হতে পারে। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং আন্দোলনের পর সরকারের এই পদক্ষেপকে সরকারি কর্মচারীদের বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ১৫ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে, চলতি মাস থেকেই বকেয়া ডিএ মেটানো শুরু হবে। এরপরই অর্থ দফতর সক্রিয় হয়ে ওঠে। জানা গিয়েছে, রোপা-২০০৯ (ROPA-2009) অনুযায়ী যে বিপুল পরিমাণ বকেয়া জমে ছিল, তার প্রথম কিস্তি এবার সরাসরি কর্মীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডে (GPF) জমা পড়তে চলেছে। অর্থ দফতরের সাম্প্রতিক মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী, ৩০ মার্চের মধ্যে বিল প্রসেস করার কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ট্রেজারিগুলোকে।

তবে এই অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ভাগ রয়েছে। গ্রুপ-ডি কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। অন্যদিকে, গ্রুপ-এ, বি এবং সি কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া অর্থ আপাতত তাঁদের জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হবে, যার ওপর থাকবে দুই বছরের লক-ইন পিরিয়ড। অর্থাৎ, এখনই সেই টাকা তোলা না গেলেও অ্যাকাউন্টে জমার মেসেজ সোমবার থেকেই পেতে শুরু করবেন কর্মীরা। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষেত্রেও বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেখানে বিরোধী দলগুলো ডিএ ইস্যুকে হাতিয়ার করে সরকার বিরোধী হাওয়া তোলার চেষ্টা করছিল, সেখানে নবান্নর এই ‘চমক’ কর্মীদের ক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত করতে পারে। সোমবার থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা ঢোকে এবং কাদের অ্যাকাউন্টে আগে ঢোকে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy