২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্র এখন বীরভূম। একদিকে যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করছেন ৬ মে বাংলায় বিজেপি সরকার গড়বে, ঠিক তখনই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বীরভূমের লাভপুরের জনসভা থেকে অমিত শাহের দম্ভ চুরমার করে অভিষেক ঘোষণা করলেন, “এবার লড়াই বিজেপিকে ৫০-এর নিচে নামানোর।” আর এই লড়াইয়ে তৃণমূলের তুরুপের তাস হতে চলেছে রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এক বিশেষ আর্থিক প্রকল্প।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং যুবসাথী প্রকল্পের সাফল্যের পর এবার রাজ্যের সমস্ত প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এক বড়সড় ঘোষণা করতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তিনি বলেন, “বাংলার মায়েরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন, যুবকরা যুবসাথী পাচ্ছেন। এবার বাড়ির বয়স্কদের জন্যও আমরা এমন কিছু আনছি যা তাঁদের মাথা উঁচু করে বাঁচতে সাহায্য করবে।” রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি বা সর্বজনীন বার্ধক্য ভাতার মতো কোনো জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের কথা ভেবেই এই মাস্টারস্ট্রোক দিতে চলেছেন অভিষেক।
লাভপুরের সভা থেকে অভিষেক আরও বলেন যে, দিল্লির নেতারা কেবল ভোট নিতে বাংলায় আসেন, কিন্তু বিপদে পাশে থাকে তৃণমূলই। শাহের ‘৬ মে’র দাবির প্রেক্ষিতে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “আগে দিল্লি সামলান, তারপর বাংলার দিকে নজর দেবেন। বিজেপি এবার গতবারের চেয়েও খারাপ ফল করবে।” অভিষেকের এই ‘প্রবীণ কার্ড’ এবং শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ আসন্ন নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।