রামনবমীর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হনুমান জয়ন্তীর ময়দানে অবতীর্ণ হলেন বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর এই প্রথম কোনো ধর্মীয় উৎসবে এত সক্রিয়ভাবে দেখা গেল তাঁকে। শনিবার বীরভূমের সিউড়িতে আয়োজিত হনুমান জয়ন্তীর এক বিশাল শোভাযাত্রায় অংশ নেন তিনি। তাঁর উপস্থিতি ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যেমন উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে, তেমনই তাঁর রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
গলায় গেরুয়া রঙের উত্তরীয় পরে মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে অনুব্রত মণ্ডল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আমরা সব ধর্মের উৎসবই ধুমধাম করে পালন করি।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুব্রতর এই সক্রিয়তা নিছকই ধর্মীয় নয়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমে বিজেপির ‘হিন্দুত্ব’ কার্ডের পাল্টা হিসেবেই তৃণমূলের এই কৌশল। অনুব্রত স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বীরভূমের মাটিতে গেরুয়া শিবিরের একাধিপত্য তিনি মেনে নেবেন না।
মিছিল শেষে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শান্তি বজায় রাখুন, মানুষের পাশে থাকুন।” যদিও তাঁর সেই চেনা মেজাজে ‘গুড়-বাতাসা’ বা ‘নকুলদানা’র মতো শব্দ শোনা যায়নি, তবে তাঁর শরীরী ভাষা বলছে বীরভূমের রাশ তিনি শক্ত হাতেই ধরছেন। বিরোধী শিবিরের দাবি, জেল ফেরত নেতার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই এই মেকি ধর্মভক্তি। তবে অনুব্রত অনুগামীদের দাবি, “দাদা ফিরতেই বীরভূমে আবার জোয়ার এসেছে।” রামনবমীর পর হনুমান জয়ন্তীতেও অনুব্রতর এই দাপট বীরভূমের রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।