নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়ল ভারতীয় জনতা পার্টি। একে একে উইকেট পড়ছে গেরুয়া শিবিরের। এবার খোদ বিজেপির এক প্রভাবশালী মণ্ডল সদস্যের নেতৃত্বে প্রায় ৩০টি পরিবার পদ্ম ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখালেন। এই গণ-দলত্যাগের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজেপির সংগঠনকে কার্যত খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
দলত্যাগী বিজেপি নেতার দাবি, দলের অন্দরে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নিচুতলার কর্মীদের প্রতি নেতৃত্বের উদাসীনতার কারণেই তাঁরা এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। এদিন তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন শাসকদলের জেলা নেতৃত্ব। নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে তৃণমূলের দাবি, “বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্তি পেতেই মানুষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন যজ্ঞে শামিল হচ্ছেন।”
অন্যদিকে, এই দলত্যাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, এতে সংগঠনের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বুথ স্তরের সক্রিয় কর্মীদের এভাবে দল ছাড়া বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে। বিশেষ করে যেখানে ৩০টি পরিবার একযোগে দল পরিবর্তন করে, সেখানে স্থানীয় সমীকরণ বদলে যাওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। এই দলবদল কি কেবল শুরু, নাকি ভোটের আগে আরও বড় কোনো ধামাকা অপেক্ষা করছে—তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।