যুদ্ধের ঠিক এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিনে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্মৃতি ফের উসকে দিল তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ‘টমাহক’ মিসাইল আছড়ে পড়েছিল ওই স্কুলে। শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কাউন্সিলে দাঁড়িয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, এই হামলার তদন্ত আর ঝুলে থাকতে পারে না। অবিলম্বে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তদন্ত কেন জরুরি? আমেরিকার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলা হয়েছে। কিন্তু ইরানের দাবি, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে একটি স্কুল এবং সামরিক ঘাঁটির মধ্যে পার্থক্য করতে না পারাটা অবিশ্বাস্য। তেহরানের অভিযোগ, তদন্ত প্রক্রিয়াকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। ১৭৫ জন নিরপরাধ প্রাণের বিচার পেতে ইরান এখন আন্তর্জাতিক আদালতের (ICJ) দরজায় কড়া নাড়তে চলেছে।
বিশ্বের প্রতিক্রিয়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর মতো সংস্থাগুলোও মিনাব স্কুলের ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের মতে, কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তুর আশেপাশে ঘনবসতিপূর্ণ স্কুল থাকা সত্ত্বেও কেন হামলা চালানো হলো, তার স্বচ্ছ উত্তর প্রয়োজন। পশ্চিম এশিয়ার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তদন্তের ফলাফলই ঠিক করে দেবে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি।