বাঁকুড়ার নিস্তরঙ্গ খাতড়া এলাকায় এখন আতঙ্কের ছায়া। জঙ্গি-যোগ সন্দেহে খাতড়ার বাসিন্দা ২০ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম মীর আফিস আলি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মীর আফিস কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন বলেই সবাই জানতেন। কিন্তু তাঁর মোবাইল ফোনের গতিবিধি এবং সন্দেহজনক কিছু হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মেসেজই তাঁকে পুলিশের নজরে নিয়ে আসে। শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
কীভাবে এল পুলিশের নাগালে? গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই একটি সন্দেহজনক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা। সেই গ্রুপ থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতামূলক কাজ করার বা সন্ত্রাসের বার্তা আদান-প্রদান করা হতো বলে প্রাথমিক অনুমান। সেই সূত্র ধরেই মীর আফিস আলির খোঁজ পায় পুলিশ। খাতড়ার বাড়িতে থাকাকালীনই তাকে জালে তোলা হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দিল্লির কাজের আড়ালে ওই যুবক কোনও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের হয়ে কাজ করছিল কি না।
পড়শিদের বয়ানে অবাক পুলিশ মীর আফিস আলির পরিবার বা প্রতিবেশীদের কাছে সে ছিল শান্ত এবং সাধারণ এক যুবক। কর্মসূত্রে দিল্লি যাওয়ার পর থেকে তার গতিবিধি সম্পর্কে বাড়ির লোকেদের কাছে খুব একটা স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তবে তার এই গ্রেফতারির পর তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, স্থানীয় স্তরে সে আর কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। তার মোবাইল ফোনটি ইতিমধ্যেই ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। দিল্লির কোনো স্লিপার সেলের সঙ্গে তার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন।