রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে এবার বড়সড় মোড়। আদালতের নির্দেশ এবং আইনি জটিলতা দ্রুত কাটাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে চলতি সপ্তাহের শনি ও রবিবারও সমস্ত সরকারি দফতর খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। মূলত বকেয়া অর্থের হিসাব নিকাশ এবং তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও অর্থ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর রাজ্য সরকার আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। আইনি সময়সীমার মধ্যে কর্মীদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই সপ্তাহান্তের বিশেষ তৎপরতার ফলেই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে।
নবান্ন সূত্রের খবর, যে সমস্ত দফতর সরাসরি কর্মীদের বেতন এবং ডিএ-র সঙ্গে যুক্ত, সেখানে হাজিরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নজরদারিতে চলবে ডেটা এন্ট্রির কাজ। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ডিএ আন্দোলন এবং আইনি লড়াইয়ের পর সরকারের এই সক্রিয়তা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
যদিও ছুটির দিনে কাজ করা নিয়ে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে, তবে বকেয়া টাকা পাওয়ার আশায় অনেকেই একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। রাজ্য সরকারের এই তৎপরতা কি নির্বাচনের আগে কর্মীদের মন জয়ের চেষ্টা? নাকি আদালতের চাপ? তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চললেও, কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারী এখন তাকিয়ে আছেন তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের দিকে।