পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর এবার আক্রমণাত্মক মেজাজে ভারতীয় জনতা পার্টি। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘দিদির দশ প্রতিজ্ঞা’ ইস্তাহারের পাল্টা হিসেবে এবার শাসকদলের ১৫ বছরের শাসনকালের খতিয়ান নিয়ে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করতে চলেছে গেরুয়া শিবির। শনিবার কলকাতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই এই ১৪ দফা চার্জশিট প্রকাশ করবেন। সূত্রের খবর, এই চার্জশিটে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের অবহেলার মতো একাধিক জ্বলন্ত ইস্যুকে হাতিয়ার করা হয়েছে।
বিজেপির এই চার্জশিটে মূলত যে ১৪টি বিষয় স্থান পেয়েছে, সেগুলি হলো: ১. নিয়োগ দুর্নীতি ও কয়লা-বালু কেলেঙ্কারি। ২. প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অপশাসন। ৩. রাজ্যের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা। ৪. সন্দেশখালির মতো নারী নির্যাতনের ঘটনা ও নিরাপত্তাহীনতা। ৫. গণতন্ত্রের টুঁটি টেপা ও ভোট পরবর্তী হিংসা। ৬. শিল্পশূন্য পশ্চিমবঙ্গ। ৭. ধুঁকতে থাকা শিক্ষাব্যবস্থা। ৮. স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশা। ৯. কৃষকদের দুর্দশা ও ফসলের সঠিক দাম না মেলা। ১০. বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবক্ষয়। ১১. উত্তরবঙ্গকে বছরের পর বছর অবহেলা। ১২. চা শ্রমিকদের শোচনীয় অবস্থা। ১৩. তিলোত্তমা কলকাতার অচলাবস্থা। ১৪. রাজ্যজুড়ে বেলাগাম সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি রাজ।
বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের পরিকল্পনা হলো, অমিত শাহের হাত দিয়ে এই চার্জশিট প্রকাশের পর তা রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি ভোটারের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া। গেরুয়া শিবিরের দাবি, ইস্তাহার বা ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশের আগে তারা মানুষের মনে তৃণমূলের ব্যর্থতাগুলো গেঁথে দিতে চায়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের চা বলয় এবং দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহলে এই চার্জশিট বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে চলেছে বলে মনে করছেন শাহ-নাড্ডারা। ভোটের আগে এই ‘চার্জশিট’ বনাম ‘দশ প্রতিজ্ঞা’-র লড়াই বঙ্গ রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।