নির্বাচনের আবহে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল নদিয়ার রানাঘাট। এক ভোটকর্মীর ওপর শারীরিক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিকেলে নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে শুভেন্দু দাবি করেন, তৃণমূলের ‘গুন্ডারা’ রানাঘাটে তাণ্ডব চালাচ্ছে এবং যারা তাদের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার সাহস দেখাচ্ছে, তাদের ওপরই নেমে আসছে নৃশংস আক্রমণ।
ঘটনার সূত্রপাত রানাঘাটের একটি এলাকায়, যেখানে কর্তব্যরত এক ভোটকর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূল পরাজয়ের ভয়ে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের ভয় দেখিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি সরকারি কর্মীরাই সুরক্ষিত না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দেবেন কীভাবে?” শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরণের ‘পৈশাচিক’ আচরণ বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।
বিরোধী দলনেতা আরও অভিযোগ করেন যে, পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। তাঁর দাবি, শাসকদলের নির্দেশেই পুলিশ দুষ্কৃতীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। এক্স পোস্টে তিনি সরাসরি তৃণমূল নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, গুন্ডাগিরি করে জয়ী হওয়ার দিন শেষ হয়ে আসছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা বাড়ানো এবং নির্বাচন কমিশন যাতে এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেয়, সেই দাবিও তুলেছেন তিনি।
রানাঘাটের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভোটকর্মীদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং একে বিজেপির ‘ভিত্তিহীন কুৎসা’ বলে দাবি করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে ভোটকর্মীর ওপর এই হামলা যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করল, তা বলাই বাহুল্য।