বিশ্বজুড়ে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তার জেরে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে যখন উত্তাল সাধারণ মানুষ, ঠিক তখনই ভারতে ‘এনার্জি লকডাউন’-এর জল্পনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, জ্বালানি সংকটের জেরে দেশে ফের কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন ফিরে আসতে পারে। তবে এই আশঙ্কাকে স্রেফ ‘রাজনৈতিক গিমিক’ বলে উড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শুক্রবার এক কড়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, যারা ভোটে হারার ভয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন, তারাই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই কৃত্রিম আতঙ্ক তৈরি করতে চাইছেন।
আসলে ‘এনার্জি লকডাউন’ শব্দটি সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। মূলত পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে অশোধিত তেলের জোগানে টান পড়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তাকে কেন্দ্র করেই এই জল্পনার সূত্রপাত। কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধান স্পষ্ট করেছেন যে, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা সজাগ। তাঁর দাবি, “দেশ কোনো দুর্দিনের পথে যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত যেকোনো বিশ্বজনীন সংকট সামলানোর ক্ষমতা রাখে।”
বিরোধীদের নিশানা করে তিনি বলেন, উন্নয়ন বা জনহিতকর কাজে পাল্লা দিতে না পেরে এখন গুজব ছড়ানোই বিরোধীদের একমাত্র অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানান যে, সরকার তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যেই আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কমানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পেট্রোল-ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিন মন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন যে, ভারত এখন আর আগের মতো আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল নয়; বরং বিকল্প শক্তির পথেও দ্রুত এগোচ্ছে। তাই লকডাউনের মতো চরম কোনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে, তখন মন্ত্রীর এই আত্মবিশ্বাসী সুর সাধারণ মানুষের মনে কতটা স্বস্তি দেয়, সেটাই এখন দেখার।





