পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে মেজাজ সপ্তমে চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের বিনপুরের এক জনসভা থেকে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। সরাসরি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক দাবি করেন, রাজ্য সরকার যখন সাধারণ মানুষের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছে, কেন্দ্র তখন অন্য পথে সেই টাকা কেড়ে নিচ্ছে। তাঁর কথায়, “একদিকে দিদি দিচ্ছেন, আর একদিকে মোদি নিচ্ছেন!”
এদিন বিনপুরের জনজোয়ারে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মা-বোনেদের আর্থিক স্বনির্ভরতার জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাধ্যমে সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাচ্ছেন। কিন্তু পাল্লা দিয়ে রান্নার গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে সেই টাকা পকেটস্থ করছে বিজেপি সরকার। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “দিদি আপনাদের মাসে ১০০০ বা ১২০০ টাকা দিচ্ছেন যাতে সংসার চলে, আর মোদিজি গ্যাসের দাম ১০০০ টাকা করে সেই টাকাটা ঘুরিয়ে নিয়ে নিচ্ছেন। এটা কি পকেটমারি নয়?”
নির্বাচনী প্রচারে অভিষেক বারবার কেন্দ্রের বঞ্চনার তত্ত্ব তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা থেকে শুরু করে আবাস যোজনার টাকা—সবই আটকে রেখেছে দিল্লি। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে ব্যালট বক্সে। বিনপুরের সভা থেকে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, বিজেপি শুধু কুৎসা আর বিভাজনের রাজনীতি জানে, উন্নয়নের নিরিখে তারা শূন্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বর্তমানে বাংলার সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্প। সেই আবেগকে ছুঁয়ে সরাসরি মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুকে জুড়ে দিয়ে অভিষেক মূলত গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করতে চাইছেন। বিনপুরের এই সভা থেকে অভিষেকের এই ‘আদান-প্রদান’ তত্ত্ব যে ভোটের ময়দানে শাসকদলের বড় হাতিয়ার হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।