সিউড়ির রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ঘটনার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। শুক্রবার সকালে সিউড়ি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় যখন পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাটজন বাজার এলাকায় প্রচার চালাচ্ছিলেন, তখনই এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খোদ তৃণমূলের বুথ সভাপতি রবি সাহার মা, শান্তারানি সাহা বিজেপি প্রার্থীকে দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজের ছেলের দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, শাসকের ঘরের অন্দরেই তৈরি হয়েছে অসন্তোষের পাহাড়।
শান্তা দেবী বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথবাবুর হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে জানান, বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে তাঁরা কতটা বঞ্চিত এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। বিরোধী প্রার্থীর সামনে একনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মীর মায়ের এই কান্না মুহূর্তের মধ্যে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মনের ভেতরে যে ক্ষোভ জমে আছে, শান্তা দেবীর এই প্রকাশ্য প্রতিবাদ তারই একটি প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে যেখানে ছেলে দলের একনিষ্ঠ পদাধিকারী, সেখানে মায়ের এই অবস্থান তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিল।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন তৃণমূলের বুথ সভাপতি রবি সাহা। তিনি পুরো বিষয়টিকে গুরুত্বহীন দাবি করে বলেন, “মায়ের মানসিক ভারসাম্য ঠিক নেই, তাই তিনি কী বলছেন তা বোঝা যাচ্ছে না।” তবে বিজেপি প্রার্থীর দাবি, এটি কোনো পাগলামি নয়, বরং সাধারণ মানুষের সত্যিকারের আর্তনাদ যা এখন তৃণমূলের অন্দরমহল থেকেও বেরিয়ে আসছে। সিউড়ির এই ‘মা-ছেলের’ রাজনৈতিক বিভাজন এখন বিধানসভা নির্বাচনের অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।