মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ ও যুদ্ধের ঘনঘটা দীর্ঘদিনের। তবে বৃহস্পতিবার সেই উত্তেজনা এক চরম মর্মান্তিক রূপ নিল। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাজধানী আবুধাবিতে এক ভয়াবহ আকাশপথের হামলায় প্রাণ হারালেন একজন ভারতীয় নাগরিক। এই ঘটনায় নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার আবুধাবির আকাশসীমায় শত্রুদেশ বা গোষ্ঠী কর্তৃক নিক্ষিপ্ত প্রজেক্টাইল বা মিসাইল প্রতিহত করার চেষ্টা করে আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আকাশেই সেই আক্রমণ রুখে দেওয়া হলেও, ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ে জনবহুল এলাকায়। এই আকস্মিক ও ভয়াবহ বিস্ফোরণের কবলে পড়ে মৃত্যু হয় এক ভারতীয়ের। নিহত ব্যক্তির পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য এখনও যাচাই করা হচ্ছে, তবে এই মৃত্যু সংবাদে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী বা ওই অঞ্চলের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবুধাবিকে লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও আমিরশাহী প্রশাসন দাবি করেছে যে তাদের ইন্টারসেপ্টর সিস্টেম সফলভাবে আক্রমণ রুখে দিয়েছে, কিন্তু একজন নিরীহ মানুষের প্রাণহানি সেই সাফল্যকে শোকের ছায়ায় ঢেকে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন সংঘাত বা ইরান কেন্দ্রিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন ক্রমশ ডালপালা মেলছে প্রতিবেশী দেশগুলিতেও। আবুধাবির মতো নিরাপদ ও বিলাসবহুল শহরে এই ধরনের ঘটনা প্রবাসী শ্রমিক ও পেশাদারদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় বসবাস করেন, যারা সেদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এমতাবস্থায় একজন ভারতীয়ের মৃত্যু দিল্লির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারত সরকার ইতিমধ্যেই আবুধাবির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। নিহত ব্যক্তির দেহ দেশে ফেরানো এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে ভারতীয় দূতাবাস থেকে সেদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আকাশপথে যুদ্ধের এই মেঘ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, এখন সেটাই দেখার।