আরবে আগুন, ভরসা এখন আর্জেন্টিনা-আমেরিকা! ভারতের জ্বালানি আমদানিতে ঐতিহাসিক বদল

ইউরোপ আর এশিয়ার যুদ্ধের জাঁতাকলে পিষ্ট বিশ্ব অর্থনীতি। বিশেষ করে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত রুদ্ধ হওয়ায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এই সংকটকালেই এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার সরাসরি আর্জেন্টিনা এবং আমেরিকা থেকে বিপুল পরিমাণ খনিজ তেল ও এলপিজি (LPG) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। দীর্ঘ মেয়াদে এই কৌশল ভারতের জন্য কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্য়েই শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে খবর, আর্জেন্টিনা থেকে লিথিয়াম ও তেলের আমদানিতে বিশেষ ছাড় পেতে চলেছে ভারত। অন্যদিকে, আমেরিকা থেকে আসা ৮ লক্ষ মেট্রিক টন এলপিজি কার্গো ইতিমধ্য়েই ভারতের পথে। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে পরিবহণ খরচ বাড়লেও, আর্জেন্টিনা থেকে আমদানির ক্ষেত্রে ভারত এক বিশেষ ‘কারেন্সি সোয়াপ’ বা স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের সুবিধা পেতে পারে, যা ডলারের ওপর চাপ কমাবে। এছাড়া ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করলে আরবের দেশগুলোর ‘তেল-রাজনীতি’ বা ওপেকের (OPEC) একাধিপত্য থেকে মুক্তি পাবে নয়া দিল্লি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল সাময়িক স্বস্তি নয়, বরং ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন (Strategic Autonomy) বজায় রাখার এক মোক্ষম অস্ত্র। আমেরিকা ও আর্জেন্টিনার সঙ্গে এই বাণিজ্যিক সেতুবন্ধন ভারতকে কেবল রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা থেকেও বাঁচাবে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে আসা তেলের জাহাজে জলদস্যু বা অন্য কোনো সামরিক অস্থিরতার ঝুঁকি সামলানোই এখন ভারতের প্রধান লক্ষ্য। তবে সব মিলিয়ে, আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করে মোদী সরকার বুঝিয়ে দিল যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভারত মাথা নত করবে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy