পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের ২৭তম দিনে ইরানকে সবথেকে বড় ধাক্কাটি দিল ইজরায়েল। বৃহস্পতিবার ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন যে, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস কোর্পস (IRGC)-এর নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি একটি নিখুঁত বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার মূল কারিগর ছিলেন এই তাংসিরি। তাঁর মৃত্যুতে পারস্য উপসাগরে ইরানের আধিপত্য বড়সড় সংকটের মুখে পড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস (Bandar Abbas) এলাকায় নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠক চলাকালীন অতর্কিতে হামলা চালায় ইজরায়েলি বায়ুসেনা। হামলায় তাংসিরির পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নৌ-কম্যান্ডার ও গোয়েন্দা প্রধান বেহনাম রেজাই নিহত হয়েছেন। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি ভিডিও বার্তায় এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, “যাঁর হাতে প্রচুর মানুষের রক্ত লেগে ছিল এবং যিনি হরমুজ প্রণালী রুদ্ধ করার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তাঁকে নির্মূল করা হয়েছে।”
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের খনিজ তেলের ২০ শতাংশ পরিবহনের প্রধান পথ। তাংসিরি এই জলপথ মাইন পেতে এবং সামরিক শক্তি দিয়ে বন্ধ করে রেখেছিলেন, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছিল। ইজরায়েলি হামলার পর আমেরিকাও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও সরকারিভাবে তাংসিরির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে একের পর এক শীর্ষ নেতার মৃত্যু ইরানের সামরিক কাঠামোর ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে।