রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানো নিয়ে এবার বড় পদক্ষেপ করল নবান্ন। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর আর দেরি না করে বকেয়া টাকা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করতে ৯ দফার একটি বিস্তারিত ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) প্রকাশ করেছে অর্থ দফতর। এর ফলে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া টাকার জট কাটতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
৯ দফার এসওপি-তে যা বলা হয়েছে: ১. হিসাব পদ্ধতি: কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী গণনা করা হবে। ২. দুই কিস্তিতে প্রদান: প্রথম পর্যায়ের বকেয়া টাকা (২০১৬-২০১৯) দুটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তি মিলবে মার্চ ২০২৬-এ এবং দ্বিতীয়টি সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ। ৩. গ্রুপ অনুযায়ী বিন্যাস: গ্রুপ এ, বি এবং সি কর্মীদের বকেয়া টাকা সরাসরি তাদের জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। ৪. নগদ টাকা: গ্রুপ ডি কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া টাকা সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদে দেওয়া হবে। ৫. লক-ইন পিরিয়ড: জিপিএফ-এ জমা হওয়া বকেয়া টাকা আগামী ২৪ মাসের আগে তোলা যাবে না (অবসর বা বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া)। ৬. পেনশনারদের সুবিধা: অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কিস্তিতে জমা হবে। ৭. মৃত কর্মীদের পরিবার: মৃত কর্মীদের ক্ষেত্রে তাঁদের নমিনি বা আইনি উত্তরাধিকারীরা এই বকেয়া টাকা পাওয়ার যোগ্য হবেন। ৮. পোর্টাল আপডেট: বকেয়া বিল তৈরির জন্য আইএফএমএস (IFMS) এবং এইচআরএমএস (HRMS) পোর্টালে প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক বদল আনা হয়েছে। ৯. ডিডিও-র ভূমিকা: ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারদের (DDO) দ্রুত বিল তৈরি করে ট্রেজারিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। অর্থ দফতরের এই নির্দেশিকা জারির ফলে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মীর মধ্যে খুশির হাওয়া। তবে বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের আর্থিক সংস্থান কীভাবে হবে, সেদিকেও নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।