স্বনির্ভরতার এক অভিনব নজির তৈরি করল লখনপুর উন্নয়ন ব্লকের কুনওয়ারপুর গ্রামের মহিলারা। জেলা পঞ্চায়েতের জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশনের (NRLM) অধীনে কর্মরত নারী শক্তি গোষ্ঠীগুলি মিলে চালু করেছে একটি বিশেষ ব্যাঙ্ক, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ছেরি ব্যাঙ্ক’ বা ‘গোট ব্যাঙ্ক’। এই ব্যাঙ্কের বিশেষত্ব হলো, এখানে ঋণের বদলে কোনো নগদ টাকা দেওয়া হয় না, বরং ঋণ হিসেবে দেওয়া হয় একটি পূর্ণবয়স্ক ছাগল।
কীভাবে কাজ করে এই ব্যাঙ্ক? এই ব্যাঙ্কের নিয়ম অত্যন্ত সহজ কিন্তু দূরদর্শী। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কোনো সদস্য যদি আর্থিক অভাবের কারণে পশুপালন শুরু করতে না পারেন, তবে তিনি এই ‘ছেরি ব্যাঙ্ক’ থেকে একটি ছাগল ধার নিতে পারেন। এই ছাগলটি পালন করে তার বংশবৃদ্ধি করাই হলো ওই মহিলার প্রধান কাজ। তবে ব্যাঙ্কের ঋণ তো মেটাতে হবে! এখানেই রয়েছে চমক। ঋণের কিস্তি হিসেবে কোনো টাকা ফেরত দিতে হয় না। পরিবর্তে, ওই ছাগলটির যখন বাচ্চা হবে, তখন প্রথম দুটি বাচ্চার মধ্যে একটিকে ওই ‘ছেরি ব্যাঙ্ক’-এ ফেরত দিতে হবে।
উদ্যোগের উদ্দেশ্য: গ্রামের দরিদ্র মহিলাদের হাতে কোনো পুঁজি না থাকলেও যাতে তারা পশুপালনের মাধ্যমে উপার্জনের পথ খুঁজে পায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ফেরত পাওয়া বাচ্চা ছাগলটিকে আবার অন্য কোনো দুঃস্থ মহিলার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এভাবেই একটি চেইন সিস্টেমে গ্রামের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে স্বনির্ভরতার আলো। বর্তমানে কুনওয়ারপুর গ্রামের এই মডেলটি জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। লখনপুর ব্লকের এই ‘ছেরি ব্যাঙ্ক’ এখন গ্রামীণ অর্থনীতির ভোল বদলে দেওয়ার অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।