মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধের দাবানল এবার সরাসরি আঘাত হানল এশিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান উৎস ইরান। যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়ার দেশগুলিতে জ্বালানি সংকট চরমে পৌঁছেছে। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম এক লাফে এতটাই বেড়েছে যে, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।
পরিবহন খরচ একধাক্কায় ৩০-৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এখন আকাশছোঁয়া। সবজি থেকে চাল-ডাল—সবই সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গণপরিবহনের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অফিসযাত্রী ও পড়ুয়ারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অনেক দেশে জ্বালানি সাশ্রয় করতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং শুরু হয়েছে, যা শিল্পোৎপাদনকেও পঙ্গু করে দিচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন যে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এশিয়ার দেশগুলিতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে। সাধারণ মানুষের সঞ্চয় শেষ হয়ে আসছে এবং দৈনন্দিন যাতায়াত থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাসের জোগান—সবক্ষেত্রেই হাহাকার দেখা দিচ্ছে। এককথায়, ইরানের সীমান্ত ছাড়িয়ে এই যুদ্ধের আঁচ এখন এশিয়ার প্রতিটি হেঁশেলে পৌঁছে গিয়েছে, যা এক গভীর মানবিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে।