২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের গণবদল নিয়ে তরজা শুরু হয়েছে। এই আবহে কলকাতা হাইকোর্টে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন নির্বাচন কমিশনের (ECI) আইনজীবী। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, দেশে মুক্ত, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন যে কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং আধিকারিককে বদলি করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।
হাইকোর্টে কমিশনের সওয়াল: সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সাংসদ ও বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের গণবদলিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে এভাবে একতরফা বদলি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। এর জবাবে বুধবার কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের সময় প্রশাসন কমিশনের অধীনে থাকে। সুষ্ঠু ভোটের প্রয়োজনে যে কোনও আধিকারিককে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো কমিশনের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে।
কেন এই বদলি? কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে বা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে তাঁকে তৎক্ষণাৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কমিশনের আইনজীবী আরও যোগ করেন যে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০-এর ১৩সিসি (13CC) ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় ওই আধিকারিকরা কমিশনের অধীনে ‘ডেপুটেশনে’ আছেন বলে গণ্য করা হয়। ফলে তাঁদের ওপর রাজ্য বা কেন্দ্রের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে শিথিল হয়ে যায়।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে ‘অগণতান্ত্রিক’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, অবাধ ভোটের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। হাইকোর্ট এখন এই বিষয়ে চূড়ান্ত কী পর্যবেক্ষণ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।