চব্বিশের লোকসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম নিয়ে বড়সড় মাস্টারস্ট্রোক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নন্দীগ্রামের সভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এবার থেকে নন্দীগ্রামে তাঁর নিজের কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের আদলেই চলবে ‘সেবাশ্রয় ক্যাম্প’। মূলত সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে দাঁড়িয়ে অভিষেকের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
লক্ষ্য ২০২৬: বুথ ভিত্তিক লড়াইয়ের ডাক এদিন সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “এই লড়াই নন্দীগ্রামকে পবিত্র করার লড়াই।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের যে সমস্ত বুথে তৃণমূল কংগ্রেসের ফল আশানুরূপ হয়নি বা খারাপ হয়েছে, সেই জায়গাগুলোতে এবার কোমর বেঁধে নামতে হবে। নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়িয়ে মানুষের ক্ষোভ প্রশমন করাই এখন ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য।
কী এই ‘সেবাশ্রয় ক্যাম্প’ মডেল? ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক অভিনব প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মডেল তৈরি করেছেন, যার নাম ‘সেবাশ্রয়’। এখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার সমাধান করা হয়। নন্দীগ্রামে এই মডেল চালু করার অর্থ হলো—বিরোধী দলনেতার গড়ে সরাসরি মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যাওয়া। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর নিজের এলাকাতেই কোণঠাসা করতে এই ‘পরিষেবা রাজনীতি’কে হাতিয়ার করছেন অভিষেক।
শুভেন্দুর গড়ে কড়া চ্যালেঞ্জ: এদিন অভিষেকের গলায় শোনা গিয়েছে লড়াইয়ের সুর। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নন্দীগ্রামের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন, যা নিয়ে আজও বিতর্ক ও আইনি লড়াই চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘সেবাশ্রয় ক্যাম্প’ এবং বুথ ভিত্তিক বিশেষ নজরদারি নিশ্চিতভাবেই বিজেপিকে চাপে রাখবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।