পাক-প্রেমীদের হুঁশিয়ারি! ২৫শে মার্চের বিভীষিকা মনে করালেন তারেক রহমান, বিঁধলেন প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারকে?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার এক বিশাল মেরুকরণ দেখা দিল। ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি পাকিস্তানের বর্বরতাকে ধিক্কার জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের তথাকথিত ‘পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা’ বা ‘নরম অবস্থান’কে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন।

কী বললেন তারেক রহমান? নিজের বার্তায় তারেক রহমান ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের রাতকে বাংলাদেশের ইতিহাসের “সবচেয়ে কলঙ্কিত ও নৃশংস দিন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর যে পরিকল্পিত গণহত্যা চালিয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য বুঝতে হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই রক্তঝরা ইতিহাস সঠিকভাবে জানতে হবে। তারেক রহমানের এই অবস্থানকে ড. ইউনূসের আমলের ‘পাকিস্তান তোষণ’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত মেরু হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউনূস বনাম তারেক: নীতির সংঘাত? ড. ইউনূসের আমলে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে যে বরফ গলার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই তাতে জল ঢেলে দিলেন। ইউনূস সরকারের সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক বা পাকিস্তানের প্রতি নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশের ভেতরেই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। তারেক রহমান আজ পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলেন, বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস এবং শহিদদের রক্ত নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি কেবল একটি ভাষণ নয়, বরং পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন এবং কঠোর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (Bangladesh First) নীতির সূচনা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy