ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিযোগ তুললেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। বুধবার ভরা আদালতে তিনি প্রকাশ করেন যে, কোনো একটি নির্দিষ্ট মামলার রায়কে প্রভাবিত করার জন্য বা রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য স্বয়ং তাঁর ভাইকেও ফোন করা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যে আইনি মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং খোদ সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
আদালতে ঠিক কী ঘটেছিল? বুধবার একটি মামলার শুনানি চলাকালীন হঠাৎই প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত অত্যন্ত গম্ভীর স্বরে জানান, বাইরে থেকে কেউ বা কোনো পক্ষ অত্যন্ত অনৈতিকভাবে তাঁর পরিবারের সদস্যদের উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “আমার ভাইকে ফোন করে জানতে চাওয়া হচ্ছে কেন এমন রায় দেওয়া হলো। রায়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে পরিবারের কাছে।” প্রধান বিচারপতির মতে, এটি কেবল বিচারপতির ওপর চাপ সৃষ্টি নয়, বরং সরাসরি বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের নামান্তর।
নজিরবিহীন আক্রমণ: প্রধান বিচারপতি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। বিচারপতির এজলাসে আইনি লড়াই হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই লড়াইকে আদালত কক্ষের বাইরে বিচারপতির আত্মীয়-স্বজনের ড্রয়িংরুম পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া ফৌজদারি অপরাধের শামিল। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীরাও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহল বিচারবিভাগকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। এই ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিচারকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখার দাবি জোরালো হচ্ছে।