২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতি এবং অতীতে ঘটে যাওয়া নানা অশান্তির কথা মাথায় রেখে এবার বিশেষ পর্যবেক্ষকদের জন্য একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোটারদের সুরক্ষা এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। এবার রাজ্যে মোট ১,১১১ জন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জন্যই থাকছে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রতিনিধি।
নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে জেনারেল অবজারভার বা সাধারণ পর্যবেক্ষক থাকবেন। এ ছাড়াও থাকছেন ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং ১০০ জন ব্যয়সংক্রান্ত পর্যবেক্ষক। তাঁদের মূল কাজ হবে বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঠিক মোতায়েন নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর কড়া নজরদারি রাখা। বিশেষ পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন নিয়মিতভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনেন।
কমিশনের জারি করা বিধিতে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষকরা তাঁদের ফোন নম্বর এবং যোগাযোগের সময় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখবেন। কোনো এলাকায় ভীতি প্রদর্শনের খবর পেলে পর্যবেক্ষককে সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে। এ ছাড়াও, সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো বা উসকানিমূলক বার্তার ওপরেও নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের প্রতিটি পর্বে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে।
রাজ্য প্রশাসনের ওপর যাতে কোনো রাজনৈতিক চাপ না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ পর্যবেক্ষকদের নিয়োগ। কমিশনের লক্ষ্য হলো, ভোটাররা যেন ভয়হীনভাবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এবারের ভোটে ‘মাইক্রো অবজারভার’-দের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে, যাঁরা প্রতিটি বুথের ভেতরের গতিবিধির রিপোর্ট সরাসরি পর্যবেক্ষকদের দেবেন। এই কড়া নজরদারির ফলে বঙ্গে ভোটের ময়দানে পেশিশক্তির আস্ফালন কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।