বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) তাদের সাম্প্রতিকতম রিপোর্টে যে তথ্য পেশ করেছে, তা শুনে ঘুম উড়েছে পরিবেশবিদ ও বিশ্বনেতাদের। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পৃথিবীর জলবায়ু তার স্বাভাবিক ভারসাম্য পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে। যে গতিতে বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ছে, তাতে আগামী কয়েক বছরে উপকূলবর্তী শহরগুলো মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আবহাওয়া সংস্থার এই সতর্কবার্তা মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম পরীক্ষা।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর সমস্ত আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ব্যর্থ হয়েছে। গত এক দশকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র বন্যা বা ঘূর্ণিঝড় নয়, বিশ্বজুড়ে শুরু হতে চলেছে এক দীর্ঘস্থায়ী খরা ও খাদ্য সংকট। উত্তর মেরুর বরফ গলনের হার এতটাই বেড়েছে যে, তা আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোতধারাকে ওলটপালট করে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, পৃথিবীর ‘থার্মোস্ট্যাট’ বা তাপ নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যার ফলস্বরূপ ঋতুচক্রের কোনো সঠিক দিশা থাকছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা এখন এক ‘ক্লিনিক্যাল ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি’-র মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। যদি এখনই কার্বন নির্গমনে লাগাম টানা না যায়, তবে ২০৩০ সালের মধ্যেই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়ে যাবে। এর অর্থ হলো দাবানল, অতিবৃষ্টি এবং প্রাণঘাতী লু (Heatwave) হবে আমাদের নিত্যসঙ্গী। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা কড়া ভাষায় জানিয়েছে, প্রকৃতি আর আমাদের সময় দেবে না; এবার ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সুযোগ।