২৬ নভেম্বর ২০০৮। গোটা দেশ যখন মুম্বই হামলার (26/11) বিভীষিকায় কাঁপছিল, অভিনেতা অর্জুন রামপালের কাছে সেই দিনটি ছিল আরও বেশি যন্ত্রণাদায়ক। কারণ, ওই দিনটি ছিল অভিনেতার ৩৬তম জন্মদিন। সেই রাতে মুম্বইয়ের এক অভিজাত হোটেলে বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিন উদ্যাপনের কথা ছিল তাঁর, কিন্তু ভাগ্যক্রমে যমের দুয়ার থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১৮ বছর পর, পরিচালক আদিত্য ধরের নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ (Dhurandhar: The Revenge)-এর মাধ্যমে সেই রাতের ট্রমার ‘প্রতিশোধ’ নিলেন অভিনেতা।
সম্প্রতি মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘হ্যালো! হল অফ ফেম অ্যাওয়ার্ডস’-এ (Hello! Hall of Fame Awards) অর্জুন রামপাল তাঁর সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। তিনি জানান, ২০০৮-এর সেই রাতে তিনি তাজ হোটেলেই ডিনার করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এক বন্ধুর তৈরি হতে দেরি হওয়ায় তিনি ওরলি-র একটি হোটেলে আটকে পড়েন। সেখান থেকেই তিনি প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। অর্জুনের কথায়, “পরদিন সকালে যখন বাড়ি ফিরছিলাম, রাগে আর ঘেন্নায় আমি তিনবার গাড়ি দাঁড় করিয়ে বমি করেছিলাম। যখন আদিত্য ধর আমাকে ‘ধুরন্ধর’-এর স্ক্রিপ্ট শোনান এবং ২৬/১১-র সিকোয়েন্সটি বলেন, আমি জানতাম এটাই আমার প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ।”
মজার বিষয় হলো, এই ছবিতে অর্জুন রামপাল কোনও নায়কের নয়, বরং খলনায়ক তথা ২৬/১১ হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড আইএসআই মেজর ইকবাল-এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অর্জুন জানান, এই শয়তান চরিত্রের মানসিকতা পর্দায় ফুটিয়ে তোলাটাই ছিল তাঁর কাছে জেদ। ছবিতে অর্জুনের চরিত্রটি যখন মুম্বইয়ের রক্তপাত দেখে উল্লাস করে, সেই দৃশ্যটি ফুটিয়ে তুলতে তিনি নিজের ভেতরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে ব্যবহার করেছেন। অভিনেতার মতে, পর্দার হিরো রণবীর সিং (হামজা চরিত্র) যখন তাঁকে শেষ করেন, তখনই যেন বাস্তবের অর্জুন রামপাল তাঁর জন্মদিনের সেই অভিশপ্ত রাতের শান্তি ফিরে পান। ১৯ মার্চ মুক্তি পাওয়া এই ছবি ইতিমধ্যই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে।