আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ফের এক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। লিফট বিভ্রাটে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিনা চিকিৎসায় বা গাফিলতির অভিযোগে প্রাণ হারালেন আরও এক রোগী। অভিযোগ, সোমবার (২৩ মার্চ, ২০২৬) ভোরে ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি থাকা সত্ত্বেও শৌচালয় ব্যবহারের জন্য এক বৃদ্ধকে হাসপাতালের বাইরে ‘সুলভ শৌচালয়’-এ পাঠানো হয়েছিল। সেখানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য তথা কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ।
সূত্রের খবর, নিমতার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সামন্ত (৪৫) শ্বাসকষ্ট ও নাক দিয়ে রক্তপাতের সমস্যা নিয়ে ট্রমা কেয়ারে ভর্তি হয়েছিলেন। সোমবার ভোর ৪:৫৫ মিনিট নাগাদ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই রোগী অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় হেঁটে শৌচালয়ের দিকে যাচ্ছেন। পরিবারের অভিযোগ, ট্রমা কেয়ারের ভেতরের শৌচালয়গুলি সংস্কারের কারণে বন্ধ থাকায় তাঁকে বাইরে যেতে বলা হয়। কোনও ট্রলি বা হুইলচেয়ার ছাড়াই তাঁকে হাসপাতালের বাইরের পে-অ্যান্ড-ইউজ শৌচালয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে সেখানেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান এবং কিছুক্ষণ পরেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অতীন ঘোষ। তিনি সরাসরি হাসপাতালের চিকিৎসকদের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, “ভোর ৪:৫৫-র সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্রমা কেয়ারে রোগীদের শৌচালয় দীর্ঘদিন ধরে কেন বন্ধ থাকবে? যদি বন্ধ থাকেও, তবে স্টাফদের জন্য নির্দিষ্ট শৌচালয় থাকতে কেন একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাইরে পাঠানো হলো? এটা চরম অমানবিকতা।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে এবং গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।