মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের (Iran War 2026) আবহে এক অভাবনীয় সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করল রাশিয়া। যখন আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানকে কোণঠাসা করতে মরিয়া, ঠিক সেই সময়েই তেহরানের ‘চোখ ও কান’ হয়ে উঠেছে মস্কো। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর দাবি অনুযায়ী, রাশিয়া বর্তমানে তাদের উন্নত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন রণতরী এবং যুদ্ধবিমানের নিখুঁত অবস্থান ইরানকে জানিয়ে দিচ্ছে।
এই ‘স্যাটেলাইট ইন্টেলিজেন্স’ বা মহাকাশ থেকে রিয়েল-টাইম নজরদারির ক্ষমতাই ইরানকে মার্কিন রাডার সিস্টেমে নিখুঁত হামলা চালাতে সাহায্য করছে। গত সপ্তাহে লোহিত সাগরে মার্কিন ও ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের যে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা হয়েছে, তার নেপথ্যে রাশিয়ার দেওয়া উচ্চপ্রযুক্তির তথ্য বা ডেটা ফিড কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে আমেরিকা ও ন্যাটোর রণকৌশল অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরানের সাহায্য নিলেও, গোয়েন্দা তথ্যের ক্ষেত্রে তারা এখন বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে। বিশেষ করে রাশিয়ার অ্যারোস্পেস ফোর্সেস (VKS) তাদের নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে এমন কিছু তথ্য সরবরাহ করছে যা মার্কিন রাডারকেও ফাঁকি দিতে সক্ষম। মস্কোর এই ‘অসাধারণ ক্ষমতা’ কেবল ইরানকে যুদ্ধের ময়দানে টিকিয়ে রাখছে না, বরং বিশ্বমঞ্চে রাশিয়ার সামরিক প্রভাবকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্রেমলিন অবশ্য এই অভিযোগকে ‘ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিলেও, গত কয়েকদিনে ইরানের নিখুঁত প্রত্যাঘাত মস্কোর এই নতুন শক্তিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।