আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে লিফট আটকে মৃত্যুর ঘটনায় ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। সোমবার বিকেলে হাসপাতালের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। প্রাথমিক তদন্তের পর আধিকারিকদের অনুমান, লিফটটি আটকে যাওয়ার পর সেটি উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় বড়সড় যান্ত্রিক ত্রুটি বা গাফিলতি থেকে থাকতে পারে। ফরেন্সিক দলের মতে, আটকে যাওয়া লিফটটি চাবি দিয়ে খোলার বদলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ‘ম্যানুয়াল লিভার সিস্টেম’-এর মাধ্যমে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তদন্তকারীদের ধারণা, লিভার টেনে লিফটটি তোলার সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে থাকতে পারে, যার ফলে ভেতরে থাকা ব্যক্তির মর্মান্তিক পরিণতি হয়। লিফটের দরজার লক এবং সেন্সরগুলো ঠিকমতো কাজ করছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। হাসপাতালের লিফট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। এই ঘটনায় হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।
ইতিমধ্যেই মৃত ব্যক্তির পরিবার গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। ফরেন্সিক আধিকারিক সোহিনী চক্রবর্তী জানান, “লিফটটি যে অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারের সময় সঠিক প্রোটোকল মানা হয়নি।” এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আর জি কর কাণ্ডে এই নতুন মৃত্যু এখন রাজ্য রাজনীতিতেও শোরগোল ফেলে দিয়েছে।