২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার সবথেকে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র হতে চলেছে ভবানীপুর। এখানে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার ভবানীপুরের চেতলাস্থ অহীন্দ্র মঞ্চে আটটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও কর্মীদের নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার কর্মিসভা করেন মমতা। জেলা সফরে যাওয়ার আগে নিজের ঘরের মাঠের কর্মীদের চনমনে করে দেওয়াই ছিল এই সভার মূল লক্ষ্য।
সভায় উপস্থিত তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন— ‘দিদি’কে গতবারের থেকেও বেশি ব্যবধানে অর্থাৎ ৬০ হাজারের বেশি ভোটে জেতাতে হবে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের ভোটগ্রহণের দিন থেকে গণনা পর্যন্ত চূড়ান্ত সতর্ক থাকার বার্তা দেন। বিশেষ করে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে মমতা বলেন, তৃণমূল এই ভোটারদের জন্য প্রয়োজনীয় সবরকম আইনি সহায়তা প্রদান করবে।
কর্মিসভা শেষে তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরো রাজ্যের ২৯৩টি আসনের কথা ভাবতে হবে। আর তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের দায়িত্ব পালন করবেন আমাদের দলের একনিষ্ঠ কর্মীরা।” নির্বাচনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভবানীপুরে ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে তৃণমূলের এই কর্মিসভা শাসক শিবিরের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।