উত্তরবঙ্গের বিশেষ বৈঠকে টিকিট-অসন্তোষের ছায়া! প্রচারের আগে অন্তর্দ্বন্দ্বে জেরবার বিজেপি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার সাথে সাথেই বিজেপির অন্দরে টিকিট নিয়ে অসন্তোষ এখন প্রকাশ্যে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। রবিবার উত্তরবঙ্গের প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে এই অস্বস্তি চরমে পৌঁছায়। সূত্রের খবর, দলের এক প্রভাবশালী সাংসদ সরাসরি তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, দলে নবাগতদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে দীর্ঘদিনের পুরনো ও একনিষ্ঠ কর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

সাংসদের বিস্ফোরক দাবি: বৈঠকে ওই সাংসদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যারা সারা বছর তৃণমূলের মার খেল, আজ টিকিট বিলির সময় তাঁদের কথা ভাবা হলো না। অথচ কয়েকদিন আগে তৃণমূল থেকে আসা নেতারা সহজেই টিকিট পেয়ে গেলেন। এই খামখেয়ালিপনার মাশুল দলকে বুথ স্তরে দিতে হতে পারে।” তাঁর মতে, এই ‘টিকিট-অসন্তোষ’ প্রচারের গতি কমিয়ে দিতে পারে।

আলিপুরদুয়ার থেকে কোচবিহার—বিক্ষোভের ছবি: ইতিমধ্যেই আলিপুরদুয়ারে বিজেপি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন একদল কর্মী। সেখানে বিদায়ী বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের দলত্যাগের পর নতুন প্রার্থী পরিতোষ দাসকে মেনে নিতে পারছেন না একাংশ। একইভাবে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য আসনেও ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে বিক্ষোভ চলছে। এদিনের বৈঠকে প্রচারের খামতি নিয়ে আলোচনা হলেও, সিংহভাগ সময় ব্যয় হয় ক্ষুব্ধ কর্মীদের কীভাবে শান্ত করা যায় সেই কৌশল নির্ধারণে।

বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য: দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য বিষয়টিকে ‘গণতান্ত্রিক দলের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক’ হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের দাবি, প্রার্থী ঠিক করার সময় জয়ী হওয়ার ক্ষমতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে বিজেপির এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৃণমূলকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy