ইরান এবং ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। এমনকী লোহা বা সার আমদানিতেও বাধা আসছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অর্থনীতি এবং আমজনতাকে সুরক্ষিত রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ শীর্ষ মন্ত্রীদের সঙ্গে এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠক করেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে ভারতের ‘এনার্জি সিকিউরিটি’ নিয়ে বড় রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে।
বৈঠকের প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ:
-
নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা: প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের অভাব দেখা দিলেও দেশের অভ্যন্তরে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের (LPG) জোগানে যেন কোনোভাবেই ঘাটতি না হয়।
-
বিকল্প পথ ও উৎস: হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রাশিয়া এবং অন্যান্য ল্যাটিন আমেরিকান দেশগুলো থেকে বিকল্প পথে তেল আমদানির প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
-
কালোবাজারি রোখা: রান্নার গ্যাস নিয়ে যাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত না হয় (Panic Booking), তার জন্য কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মজুতদারি বা কালোবাজারি রুখতে রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে তল্লাশি অভিযান চলবে।
-
সার ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে নজর: চাষিদের যাতে সারের অভাব না হয় এবং গরমের মরসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল থাকে, তার জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার সরবরাহ ঠিক রাখতে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের কথা ভাবা হয়েছে।
আমজনতার ওপর প্রভাব: কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার পার করলেও বর্তমানে সাধারণ পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। তবে বাণিজ্যিক এলপিজি এবং প্রিমিয়াম পেট্রোলের দামে সামান্য রদবদল হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারতের তেলের ভাণ্ডার (Strategic Reserves) পর্যাপ্ত রয়েছে এবং আপদকালীন পরিস্থিতির জন্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।