নির্বাচন কমিশনের অন্দরের ফাটল এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতি-সক্রিয়তা নিয়ে ফের উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসার পদত্যাগ কি আদৌ স্বাভাবিক ছিল, নাকি তার পিছনে ছিল গভীর কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের বিরুদ্ধে ওঠা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ‘ক্লিনচিট’ দিতে অস্বীকার করেছিলেন লাভাসা। আর তার ঠিক পরেই শুরু হয় কেন্দ্রীয় এজেন্সির ‘তৎপরতা’।
লাভাসার ইস্তফা ও এজেন্সির ছায়া: দাবি করা হচ্ছে, মোদী-শাহর বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পর থেকেই অশোক লাভাসার পরিবারের ওপর আয়কর এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার চাপ বাড়তে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (ADB) দায়িত্ব নিয়ে দেশ ছাড়েন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নিরপেক্ষভাবে কাজ করার ‘পুরস্কার’ হিসেবেই তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে হেনস্থা করা হয়েছিল। বর্তমান নির্বাচনী আবহে এই পুরনো ক্ষত ফের খুঁচিয়ে তোলায় অস্বস্তিতে বিজেপি শিবির।
সঞ্জয় রাউতের বই ঘিরে নতুন বিতর্ক: এদিকে শিবসেনা (UBT) নেতা সঞ্জয় রাউতের লেখা বই ‘Unlikely Paradise’ (আনলাইকলি প্যারাডাইস) নিয়ে শুরু হয়েছে চরম শোরগোল। ২০২৫ সালে জেলে থাকাকালীন মারাঠি ভাষায় তিনি এই বইটি লিখেছিলেন। এবার এর ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হতে চলেছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার এবং এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক নতুন তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। রাউতের দাবি, কীভাবে রাজনৈতিক নেতাদের কণ্ঠরোধ করতে জেলের অন্ধকক্ষকে ব্যবহার করা হয়, তার জীবন্ত দলিল এই বই।
বিরোধীদের হাতিয়ার: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে লাভাসা এবং রাউতের এই জোড়া ইস্যুকে হাতিয়ার করছে বিরোধীরা। তৃণমূল থেকে শুরু করে সমাজবাদী পার্টি—সবারই এক সুর, “স্বশাসিত সংস্থাগুলোকে পঙ্গু করে দিচ্ছে কেন্দ্র।” সরকারি আধিকারিকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক কি ইভিএমে প্রভাব ফেলবে? উত্তরের অপেক্ষায় দেশবাসী।