২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন যে, এবার নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি ঘটবে ভবানীপুরে। এই আবহে শুভেন্দুর সেই ‘পাখির চোখ’ পূরণ করতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ময়দানে নামছেন বলে বিজেপি সূত্রে খবর। ১৫ মার্চ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর জানা গেছে, আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। তার ঠিক পরেই অর্থাৎ ২৪ থেকে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে কলকাতায় পা রাখতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে দক্ষিণ কলকাতার এই হাই-প্রোফাইল আসনটি।
শুভেন্দুর তুরুপের তাস যখন মোদী: শুভেন্দু অধিকারী বারবার দাবি করছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের গড়েই হারানো সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে মোদীর একটি মেগা রোড-শো এবং জনসভার আবেদন জানিয়েছিলেন। গত ১৪ মার্চ ব্রিগেডের মহাসমাবেশে মোদী যে সুর বেঁধে দিয়েছিলেন, তাকেই এবার দক্ষিণ কলকাতার অলিগলিতে পৌঁছে দিতে চায় গেরুয়া শিবির। সূত্রের খবর, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভবানীপুর এবং সংলগ্ন রাসবিহারী ও বালিগঞ্জ এলাকাকে কভার করে কয়েক কিলোমিটার লম্বা এক ঐতিহাসিক রোড-শো করতে পারেন নরেন্দ্র মোদী।
বিজেপির প্রচার কৌশল: বিজেপি এবার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের চেয়েও বেশি জোর দিচ্ছে দুর্নীতির ইস্যু এবং তৃণমূলের ‘গুন্ডাগর্দি’ বন্ধ করার ওপর। মোদীর এই সফরে ‘বিকাশ’ এবং ‘সুরক্ষা’—এই দুই মন্ত্রকেই হাতিয়ার করা হবে। উত্তর কলকাতায় ইতিমধ্যেই মোদীর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, এবার দক্ষিণ কলকাতার শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মন জয় করতে মোদীকে দিয়ে বড় কোনো মাস্টারস্ট্রোক দিতে চাইছে বিজেপি। বিশেষ করে বাঙালি হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগ এবং উন্নয়নের অভাবকে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসাই তাঁদের লক্ষ্য।
তৃণমূলের পালটা হুঙ্কার: প্রধানমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফর নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “ভোটের বসন্তে কোকিলরা আসবেই। কিন্তু ভবানীপুর দিদির ঘর, সেখানে বাইরের কেউ এসে ফাটল ধরাতে পারবে না।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ইতিমধ্যেই ভবানীপুরে কর্মিসভা করে পাল্টা কৌশল সাজাতে শুরু করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে মোদীর উপস্থিতি এবং হিন্দুত্ব ও উন্নয়নের মিশ্রিত ভাষণ ইভিএমে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।