রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফল মিলতে শুরু করেছে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA Arrears) প্রথম কিস্তির টাকা মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করল নবান্ন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণা রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর যে নির্দেশ শীর্ষ আদালত দিয়েছিল, সেই পথেই এবার হাঁটল অর্থ দপ্তর।
কারা পাবেন এই টাকা? রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই টাকা শুধুমাত্র নিয়মিত সরকারি কর্মচারীরাই নন, বরং শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মীরাও পাবেন। প্রথম ধাপে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে মনে রাখবেন, সব শ্রেণির কর্মীরা একভাবে এই টাকা হাতে পাবেন না।
টাকা পাওয়ার নিয়ম ও বিভাজন: অর্থ দপ্তরের ৯৯৬-এফ(পি২) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী:
-
গ্রুপ-ডি কর্মী: এদের বকেয়া ডিএ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদে জমা হবে।
-
গ্রুপ-এ, বি এবং সি কর্মী: এদের বকেয়া টাকা সরাসরি জিপিএফ (General Provident Fund) অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। তবে এই টাকা এখনই তোলা যাবে না; এর জন্য ২৪ মাসের একটি ‘লক-ইন’ পিরিয়ড রাখা হয়েছে।
-
পেনশনভোগী: এঁদের প্রাপ্য টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিআর (DR) হিসেবে পৌঁছে যাবে।
কত টাকা পাবেন আপনি? আপনার বকেয়া কত হবে তা নির্ভর করছে ওই সময়কালীন আপনার ‘বেসিক পে’ (ব্যান্ড পে + গ্রেড পে) এবং সেই সময়ে বকেয়া শতাংশের ওপর। অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী এই হিসেব কষা হচ্ছে। হিসেব সহজ করতে অনলাইন ‘DA ক্যালকুলেটর’ ব্যবহার করতে পারেন কর্মীরা। উদাহরণস্বরূপ, যদি কারোর বকেয়া ডিএ মোট ১ লক্ষ টাকা হয়, তবে প্রথম কিস্তিতে তার ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ২৫,০০০ টাকা বরাদ্দ হতে পারে (যা কিস্তিতে ভাগ হবে)।
কবে ঢুকবে টাকা? মার্চ মাসের বেতন বা পেনশনের সাথেই এই প্রথম কিস্তির টাকা বিলির কাজ শুরু করেছে ট্রেজারি। দ্বিতীয় কিস্তিটি সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই প্রাপ্তি কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটাল কি না, তা সময়ই বলবে।