ছুটির আমেজ নিমেষেই বদলে গেল আর্তনাদ আর হাহাকারে। ছত্তিশগড়ের রায়গড় জেলায় বিন্ধবাসিনী মন্দিরে রোপওয়ে দুর্ঘটনায় স্তব্ধ গোটা দেশ। পাহাড়ের চূড়ায় মন্দিরে পুজো দিয়ে ফেরার পথে যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে মাঝ আকাশ থেকে মাটিতে আছড়ে পড়ল একটি ট্রলি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন পুণ্যার্থী, এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও অনেকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মুহূর্তের অসতর্কতা আর যান্ত্রিক অবহেলাই এই প্রাণঘাতী বিপর্যয়ের মূল কারণ।
কীভাবে ঘটল এই মরণঝাঁপ? প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রবিবার বিকেলে যখন পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের ভিড় ছিল তুঙ্গে, তখনই হঠাৎ বিকট শব্দে রোপওয়ের মূল তারটি ছিঁড়ে যায়। একটি ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কয়েকশ ফুট নিচে পাথুরে জমিতে আছড়ে পড়ে। ট্রলিতে থাকা যাত্রীরা আত্মরক্ষার সুযোগটুকুও পাননি। ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজে নামে। ড্রোন এবং হেলিকপ্টারের সাহায্যে পাহাড়ি খাদ থেকে দেহগুলি উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে হাজারো প্রশ্ন: বিন্ধবাসিনী মন্দিরের এই রোপওয়েটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু এই দুর্ঘটনার পর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, রোপওয়েটির ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রোপওয়ে অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছে।
থমথমে গোটা এলাকা: এই ঘটনার পর বিন্ধবাসিনী মন্দিরে পর্যটকদের প্রবেশ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। যারা মাঝ আকাশে অন্যান্য ট্রলিতে আটকে পড়েছিলেন, দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর তাঁদের নিরাপদে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে চোখের সামনে ট্রলি আছড়ে পড়ার সেই ভয়াবহ স্মৃতি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না উদ্ধার হওয়া পর্যটকরা। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল পর্যটন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।