আধুনিক কর্পোরেট দুনিয়ায় মানবিকতার চেয়েও কি কাজের গুরুত্ব বেশি? এক মর্মান্তিক ঘটনা এই প্রশ্নটিকেই ফের সামনে নিয়ে এসেছে। আমেরিকার এক নামী সংস্থায় কর্মরত এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা বারবার ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তাঁকে ছুটি বা ছাড় দেওয়া হয়নি, উল্টে অফিসে আসতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই অমানবিক চাপের জেরে অকাল প্রসব হয় ওই কর্মীর এবং জন্মের কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর সন্তানের। এই চরম গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ১৮৮ কোটি টাকা (২২.৫ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন আদালত।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কর্মী গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বাড়ি থেকে কাজ করার আবেদন করেন। কিন্তু সংস্থা তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দেয় এবং তাঁকে সরাসরি অফিসে এসে কাজ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা জানা সত্ত্বেও তাঁকে দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে বাধ্য করা হত। অফিসের এই প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক ধকল সহ্য করতে না পেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সময়ের আগেই তাঁর প্রসব হয়ে যায়। দুর্ভাগ্যবশত, অপরিপক্ক ফুসফুস এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
আদালতের ঐতিহাসিক রায়: সন্তান হারানোর পর ওই মহিলা সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানির পর জুরি বোর্ড জানায়, সংস্থাটি ‘প্রেগন্যান্সি ডিসক্রিমিনেশন অ্যাক্ট’ বা গর্ভাবস্থায় বৈষম্যবিরোধী আইন লঙ্ঘন করেছে। শুধু তাই নয়, কর্মীর সুরক্ষার চেয়ে সংস্থার মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই ১৮৮ কোটি টাকার জরিমানা বিশ্বজুড়ে কর্পোরেট সংস্থাগুলির কাছে এক বড় বার্তা। কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন অধিকার যে কোনও আপসের ঊর্ধ্বে, এই রায় তা পুনপ্রতিষ্ঠিত করল।