পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির চরম অবনতির মাঝেই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করল ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে অংশ নেন। ইদ এবং পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’-এর শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায় উঠে আসে লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরের অস্থিরতা ও তার ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাতের বিষয়টি।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এই আলোচনায় সাফ জানিয়েছেন যে, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। ভারত চায় সমুদ্রপথে পণ্য চলাচলের স্বাধীনতা (Freedom of Navigation) বজায় থাকুক এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ যেন নিরাপদ থাকে। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েলের ‘আগ্রাসন’কে দায়ী করেছেন। তিনি ভারতকে ‘ব্রিকস’ (BRICS)-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে এক স্বাধীন ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন যাতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানো যায়।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের প্রস্তাবিত ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফ্রেমওয়ার্ক’ নিয়ে ভারতের অবস্থান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী মোদী বারবার জোর দিয়েছেন যে, যুদ্ধ নয় বরং আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই সমস্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব। এছাড়া ইরানে বসবাসকারী কয়েক হাজার ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়েও দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছে। ভারতের এই ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’ এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।