শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামে এবার বড়সড় থাবা বসাতে কোমর বেঁধে নেমেছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বাংলার রাজনীতির ‘এপিসেন্টার’ নন্দীগ্রামকে পাখির চোখ করেছেন তৃণমূল সেনাপতি। সম্প্রতি পবিত্র করকে প্রার্থী করে প্রথম চালটি চেলেছেন অভিষেক, কিন্তু রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন— আসল খেলা তো এখনও বাকি! শুভেন্দুর দাপট কমাতে অভিষেকের ‘দ্বিতীয় চাল’ আরও বেশি মারাত্মক হতে চলেছে।
তৃণমূল সূত্রের খবর, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় স্তরে এমন কিছু নেতার ওপর ভরসা রাখছেন, যারা সরাসরি শুভেন্দুর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। পবিত্র করকে সামনের সারিতে এনে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, লড়াই হবে সমানে সমানে। তবে দ্বিতীয় চালে থাকছে এক বিশেষ ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’। এখানে হিন্দু-মুসলিম ভোটের মেরুকরণ রুখতে অভিষেক এক অভিনব কৌশল নিয়েছেন। নন্দীগ্রামের প্রতিটি বুথ স্তরে তৃণমূলের সংগঠনকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, যেখানে অরাজনৈতিক মুখ এবং এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের শামিল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে অভিষেকের তুরুপের তাস হতে পারে এলাকার সমবায় আন্দোলন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি। নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের মনে শুভেন্দুর ইমেজ ভাঙতে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সরাসরি সুফল পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তৃণমূল সেনাপতি। বিজেপির হিন্দুত্বের রাজনীতির বিপরীতে অভিষেক উন্নয়ন ও সম্প্রীতির কার্ড খেলতে চাইছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রামে এবার তৃণমূলের রণনীতি হবে ‘আক্রমণাত্মক রক্ষণভাগ’। অর্থাৎ, নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক অটুট রেখে বিজেপির দুর্গে নিঃশব্দে ফাটল ধরানো। অভিষেক কি পারবেন শুভেন্দুর গড়ে জোড়াফুল ফোটাতে? উত্তর দেবে সময়, তবে দাবার বোর্ডের এই লড়াই যে চরম উত্তেজক হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।